ছবি : সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কংস নদ থেকে এক শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। লোমহর্ষক এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন তরুণকে ইতিমিধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ওই নিষ্পাপ শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন তথা ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে হত্যার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার বিকেল বেলা নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে নিখোঁজ হয় মাত্র পাঁচ বছর বয়সী ওই কন্যাসন্তানটি। স্বজনরা চারদিকে হন্যে হয়ে খুঁজেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে কংস নদের পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করেন।
প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করে দাফন-কাফনের আয়োজন করা হলেও, গোসল করানোর সময় শিশুটির শরীরে ও গুপ্তাঙ্গে আঘাতের ক্ষত দৃশ্যমান হয়। এতে স্বজনদের মনে সন্দেহের উদ্রেক হলে তারা তাৎক্ষণিক থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নেমে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আটককৃতরা হলো— ধোবাউড়া উপজেলার বাসিন্দা মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯) এবং রাকিব মিয়া (২১)। নৃশংস এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা ও নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য মিলেছে। জানা গেছে, শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে নদীর পাড়ে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় বখাটেরা। সেখানে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানোর পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তাকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এই পাশবিকতায় জড়িত আরও এক পলাতক আসামিকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলমান। ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বাকি অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।