ছবি : সংগৃহীত
ওএসডি হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও অদৃশ্য শক্তিবলে স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্বপালন করছেন সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। গত ১৬ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাস্থ্য বিভাগের উপসচিব সাইফুল ইসলামের সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জারিকৃত আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও স্বপদে বহাল থেকে হাসপাতালের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান চিকিৎসালয় ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে আউটসোসিং নিয়োগ ও বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামীলীগ নেতার সুপারিশে পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে গত বছরের ১১ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালিতে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ওএসডি করা হলেও রহস্যজনক কারনে ২৫ দিনের মাথায় পূর্বের কর্মস্থল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার প্রায় ৯ মাস পর গত ১৬জুন ফের ওএসডি করা হয় মাহবুুবুর রহমান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের এক সপ্তাহ পার হলেও হাসপাতালের তত্ত্বাধায়কের দায়িত¦ পালন করায় প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। ২৪ জুন বুধবার দুপুরে সরজমিনে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় তত্ত্বাবধায়কের অফিস কক্ষে হাসপাতালের বিভিন্ন ডাক্তার ও কর্মকর্তাদের নিয়ের সভা করছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুর রহমান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ওএসডি করার পরও তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্ব পালন করছেন। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তিনি এতোটাই প্রভাবশালী যে স্বপদে বহাল থেকে ওএসডি উড্ডো করতে উর্ধ্বতনদের সাথে তদবীর করছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।
দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের বাহিরে রয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক পদে হাসপাতালে কাউকে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি । নতুন দায়িত্ব না দেয়া হলেত আমি যেতে পারিনা। নতুন কেউ দায়িত্বগ্রহণ করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকায় চলে যাবো।
এ ব্যাপারে সিলেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মাহবুবুল আলম বলেন, নতুন তত্ত্বাবধায়ক না আসায় দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্যে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালের কাজতো ফেলে রাখা যায়না। আমি খোঁজ নিচ্ছি তাঁর অর্ডারের কোনো পরিবর্তন হলো কিনা।