প্রকাশিত : ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪২ (শনিবার)
শান্তিগঞ্জে দু'পক্ষের সং ঘ র্ষে  অ ত র্কিত হা ম লায় যুবক নি হ ত

ছবি : ওয়ানটিভি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় আস্তমা গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে রুস্তম আলী (৩২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১০ টায় সংঘর্ষে নিহতের ঘটনা ঘটে।  শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের নজিব আলী (৭০) পক্ষ এবং আরিছ আলী (৫৫) পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীগত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় আস্তমা পয়েন্টে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে আস্তমা পয়েন্টের নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ারের সামনে রুস্তম আলীকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায় আরিছ আলীর পক্ষের লোকজন৷ খবর পেয়ে নজিব আলী পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুস্তমকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায়। 

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। গুরুতর আহত রুস্তম আলীকে (৩৫) উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায় শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। এসময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আস্তমা গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে নজিব আলী (৭০), একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদ ও ছাতক উপজেলার খুরমা ইউনিয়নের কঠালপুর নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আশ্রব আলীর ছেলে জুয়েল মিয়াকে (৩৭) গ্রেফতার করে পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় থানায় এজাহার প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। এদিকে, সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলিউল্লাহ জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে আস্তমা গ্রামে দুই পক্ষে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরিস্থিত এখন শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।