প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৬ ২১:৫৮ (বুধবার)
ছায়া ডিসি পিন্টুর ১ যুগের রাজত্ব !

ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের সরকারি চাকরি বিধি অনুযাযী সরকারি কর্মকর্তাদের একটি কর্মস্থলে সর্বোচ্চ ৩ বছর অথবা বিশেষ প্রয়োজনে ৫ বছর থাকার বিধান থাকলেও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিন্টু দাস অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে একই কর্মস্থলে রয়েছেন ১১ বছর। ২০১৫ সাল থেকে প্রায় ১ যুগ সময় ধরে প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করায় গড়ে তুলেছেন এক দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক রাজত¦। বিগত আওয়ীমীলীগ সরকারের একাধিক দুর্নীতিবাজ জেলা প্রশাসক, মন্ত্রী এমপিদের পিএস ও হেভিওয়েট আ.লীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা থাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন পুরো জেলা প্রশাসনের। পট পরিবর্তনের পরেও একই দায়িত্বে বহাল তবিয়তে থাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বপক্ষের শক্তি। 

অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিন্টু দাস, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে নিজের প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। সেবা নিতে আসা সাধারণের সাথে অসদাচরণ,স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মসহ সরকারির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করার অভিযোগ রয়েছে পিন্টুর বিরুদ্ধে। তাছাড়া বিগত সময়ে রাজনৈতিক নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর সাথে সখ্যতা থাকায় নানাভাবে অবৈধ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসকের খুব কাছের কর্মকর্তা হওয়ায় ট্রেজারি শাখায় কর্মরত স্ত্রী জেমি চৌধুরীকে কর্মক্ষেত্রে সুবিধা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, পিন্টু দাস প্রায় ১ যুগ সময় ধরে জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখায় কর্মরত রয়েছে। সাবেক জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের হাত ধরে গোপনীয় শাখায় বসেন পিন্টু। ৮ জন জেলা প্রশাসকের সাথে কাজ করেছেন তিনি। ফ্যাস্টিস্ট আমল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে থাকায় সমালোচনা করেছেন তিনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পিন্টু দাস এখন ডিসি অফিসের সর্বেসর্বা। তিনি বিগত সময়েও সুবিধা নিয়েছেন, এখনও নিচ্ছেন।

দীর্ঘ এক যুগ একই দায়িত্বে থাকায় সমালোচনা করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক মিয়া বলেন, একজন কর্মকর্তা আওয়ামীলীগের ফ্যাসিস্ট আমলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ শাখায় এখনো দায়িত্ব পালন করছেন । এটি স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা এক দপ্তরে এতোদিন কিভাবে দায়িত্ব পালন করেন এমন প্রশ্ন করেন তিনি।

জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক এন. ডি উসমান গনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর অনেক ফ্যাস্টিট কর্মকর্তা কর্মচারী বদলী হয়েছেন। অথচ সেই ফ্যাসিস্ট আমল থেকে বতর্মান সময় পর্যন্ত একই দপ্তরের এক যুগ ধরে কর্মরত রয়েছেন পিন্টু দাস। যতদূর জেনেছি তিনি ফ্যাসিস্ট আমলের অনেক নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। তিনি কর্মক্ষেত্রে অনেক সুবিধা নিয়েছেন। গণ অভ্যুত্থান পরবর্তিতে আমরা আশা করেছিলাম জেলা প্রশাসক কার্যালয় অন্তত ফ্যাসিস্টের দোসর মুক্ত থাকবে কিন্তু সেটি হয়নি।   

এদিকে একই কর্মস্থলে এক যুগ দায়িত্বে থাকার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিন্টু দাস বলেন, পদায়ন এটি আমার ইচ্ছে নয়, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছে একই দপ্তরে রয়েছি। কর্তৃপক্ষ যদি কালকেই বদলি করেন, আমি কালকেই চলে যাবো। আমি নিজেও চাই বদলী হতে। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় থাকায় মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমি স্যারকে বলেছি, বদলি করে দিতে । এতে আমার উপকার হয়।  আমার তেমন ক্ষমতা নেই , আমার এমন কি ক্ষমতা রয়েছে যে আমি স্বেচ্ছাচারিতা করবো। এ বিষয়ে প্রতিবেদকের সাথে সরাসরি বসে কথা বলার প্রস্তাব দেন তিনি। 

এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খানের সাথে কথা বলতে বলেন। পরে মতিউর রহমান খানের সাথে  প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, একই কর্মস্থলে ১১ বছর থাকার সুযোগ নেই। পিন্টু দাস একই দপ্তরে এতো বছর রয়েছেন সেটি তার জানা নেই। তাছাড়া পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা। 

ধারাবাহিক পর্বের-১ম