প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৪৮ (বুধবার)
ছাতকে ৪৩৪ গাছের নিলাম মূল্যায়ন  ও প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ছবি : ওয়ানটিভি


আনোয়ার হো‌সেন র‌নি,ছাতক প্রতিনিধি:
ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের তকিপুর মসজিদ থেকে তাজপুর বাজার পর্যন্ত নিলামে বিক্রি করা ৪৩৪টি গাছের মূল্যায়ন, কাঠের পরিমাণ ও নিলাম প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, ছাতক উপজেলা কমিটি।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেন সংগঠনের আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব উজ্জীবক সুজন তালুকদার।
আবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নিলামের জন্য নির্ধারিত গাছগুলোর নিলাম কার্যক্রম গত ১০ আগস্ট ২০২৬ বাস্তবায়ন করা হয়। ৪৩৪টি গাছের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপকারভোগীদের অংশ ৯ লাখগ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং সরকারি অংশ ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা।

সংগঠনটির দাবি, বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এসব গাছে প্রায় ৩ হাজার ৫২৯ ঘনফুট কাঠ এবং ২ হাজার ৬৭১ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ রয়েছে। গাছগুলোর মধ্যে রেইনট্রি, মেহগনি, আকাশমণি, শিশু, জাম, পিটালি, অর্জুন, ছাতিয়ান, জারুল, গামারি, কড়ই, চাপালিশ, বাবলা ও কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, গাছের প্রজাতি, বয়স, আকার ও কাঠের পরিমাণ বিবেচনায় সরকারি মূল্যায়ন যথাযথ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিলামমূল্য বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

নিলাম প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রতিযোগিতা ও সর্বোচ্চ দর নিশ্চিত হয়েছিল কি না এবং নির্ধারিত সীমা ও কার্যাদেশ অনুযায়ী গাছ কাটা হচ্ছে কি না—তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাছ কাটার কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও নিলামসংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং কোনো অনিয়ম বা সরকারি সম্পদের আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় বিষয়টির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত জরুরি।
এ সময় জামিল হোসেন, দিলোয়ার হোসেন জয়, কেএমএ বাসিত, শিব্বির আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।