প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:২৫ (শুক্রবার)
সমঝোতায় হাতকড়া উদ্ধার হলেও আসামী অধরা

ছবি: সংগ্রহীত

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মব সৃষ্টি করে হাতকড়াসহ আসামী ছিনতাইয়ের ঘটনায় 'সমঝোতার' মাধ্যমে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতকড়া উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও পলাতক আসামী আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। 

এদিকে হাতকড়া উদ্ধার করা হলেও আসামী গ্রেপ্তার না হওয়া, হাতকড়াসহ আসামী পালানোর বিষয়টি থানার ওসির অস্বীকার এবং পরবর্তীতে তা স্বীকার  করায় ধুম্রজাল তৈরী হয়েছে। এছাড়া ফেসবুক লাইভে অভিযুক্ত আসির নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করে হয়রানির অভিযোগ তুলেন পুলিশের বিরুদ্ধে। ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মারজান আহমেদ চৌধুরী বলেন, আসামীর হাতকড়া খুলতে তো চাবি লাগবে, পুলিশের সহযোগিতা লাগবে। তাহলে চাবি ছাড়া হাতকড়া কিভাবে খুলে উদ্ধার করা হলো? 

হোসাইন আহমদ সোহান বলেন, 'মিথ্যা মামলায় জেনেশুনে চা নাস্তা খেয়ে ওয়ারেন্ট ছাড়া আসামি ধরতে গেলে এইরকম পরিস্থিতিই হবে।'

পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আসকির আলী বলেন, 'রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আমরা স্থানীয়রা পুলিশের সাথে কথা বলে হাতকরা উদ্ধারের চেষ্টা করি। পরে অভিযুক্ত আসির আলীর কাছ থেকে হাতকড়া উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে আসির মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় হঠাৎ সেখানে হট্টগোল শুরু হয়। এসময় নারীসহ আসির মিয়ার স্বজনরা তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা দেন। একপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই সুযোগে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসির মিয়া হাতকড়াসহ পালিয়ে যান।
পালিয়ে যাওয়ার আধঘন্টা পরে আসামী আসির আলী অজ্ঞাত স্থান থেকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। লাইভ বক্তব্যে তিনি দাবি করেন ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করে বেআইনিভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এসময় তার হাতে 'হাতকরা' পরিহিত ছিল। 

তবে রাতে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ 'হাতকরাসহ' আসামীর পলায়নের বিষয়টি অস্বীকার করলেও সকালে নিজের বক্তব্য পাল্টে হাতকরা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান।  

ওসি অলিউল্ল্যাহ কালবেলাকে বলেন, গত রাতে দামোধরটুপি এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।পরবর্তীতে হাতকরা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামীর অবস্থান জানা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।'
পুলিশের উপর হামলা ও হাতকড়া নিয়ে পলায়নের ঘটনা কোনো মামলা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি অস্বীকার করলেও পলিশ এসল্ট ও আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় শান্তুিগঞ্জ থানায় ১৪ জনের নামে মামলা কথা স্বীকার করে
সুনামগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, 'হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে কিন্তু আসামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামী হয়তো কোথাও হাতকড়া রেখে চলে গেছে। পরবর্তীতে বলছে যে হাতকড়া এইখানে আছে। সেই তথ্যমতেই হাতকড়া উদ্ধার হয়েছে। হাতকড়া যদি খুলেই আনতো তবে তো আসামীকে পাওয়াই যেতো ওইসময়। পুলিশের সমঝোতার প্রশ্নে তিসি বলেন, বিষয়টা এরকম নয়। তবে আসামীকে গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আশা করি শীঘ্রই ধরে ফেলবো। আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে।