প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:১৫ (শুক্রবার)
শান্তিগঞ্জে 'নৌকাবাইচ' ঘিরে উত্তেজনা, বন্ধের দাবি প্যানেল চেয়ারম্যানের

ছবি : ওয়ানটিভি

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে নৌকাবাইচের আয়োজনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও ও ধলমৈশা গ্রামের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নৌকাবাইচের পক্ষে-বিপক্ষে পোস্ট করছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার পোস্ট ও কমেন্টের মাধ্যমে হুমকিধামকিও প্রদান করছেন। 

নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মাঝে চলমান এই উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রুপ নিতে পারে এমন আশংকার কথা উল্লেখ করে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদ। 

রোববার (১৩ নভেম্বর) বিকালে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর এই আবেদন করেন রুজেল আহমদ। অভিযোগপত্রের অনুলিপি শান্তিগঞ্জ থানার ওসি বরাবর পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রুজেল আহমদ। 

অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদকে অবগত না করেই আগামী বুধবার (১৬ই সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের ধলমৈশা গ্রামের দক্ষিণে খাই হাওরে নৌকাবাইচের উদ্যোগ নিয়েছেন একই গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল হোসেন। ইউনিয়ন পরিষদকে এড়িয়ে এমন একটি বড় আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন অশালীন পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই অবিলম্বে নোকাইবাইচ বন্ধ করা না হলে গ্রামকেন্দ্রিক সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

নৌকাবাইচের আয়োজক আবুল হোসেনের ভাই আলী হোসেন জানান, বিগত বছরেও পাঁচ গ্রামের সমন্বয়ে নৌকাবাইচ সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এখানে বীরগাঁও গ্রামের কোনো বিষয় নেই। গতবছরও তারা একই ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা সফলভাবে নৌকাবাইচ সম্পন্ন করেছি। এবছরও নৌকাবাইচ সফল করতে পাঁচ গ্রামের মানুষ কাজ করছি। নৌকাবাইচ ঘিরে সংঘাতের কোনো আশঙ্কা নেই। যারা বিতর্ক করছেন এটা তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, আমি দিনের বেলা জেলায় মিটিংয়ে থাকায় অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেছেন। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। ওসি সাহেবের কাছেও এই অভিযোগটা আছে। তাঁর সাথেও আলাপ করেছি। এই বিষয়ে উভয়পক্ষের কথা শুনবো। এই ধরনের প্রোগ্রামে যদি শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় তাহলে এধরনের প্রোগ্রামের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী বিষয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করবো।