ছবিঃ ওয়ান টিভি
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শুরু হওয়া চার লেন সড়ক নির্মাণকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। প্রকল্পের শুরু থেকেই নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতায় উন্নয়নকাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে সড়কের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ ও স্থানান্তর না হওয়ায় জেলা শহরের প্রধান সড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে দেখা যাচ্ছে। সড়ক থেকে খুঁটি স্থানান্তরের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের গড়িমসিতে ঝুলে আছে সড়কের সিসি ও আরসিসি ডালাইয়ের কাজ। নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে প্রতিনিয়ত দেখা দিচ্ছে যানজট, এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম দিকে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছর মেয়াদি চারলেন প্রকল্পের শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মেগা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
আগামী বছরের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। দ্রুত সময়ে মধ্যে সড়কের দুইপাশের বৈদ্যুতিক স্থানান্তরের কথা থাকলেও এখনো সড়কের ৭০ ভাগ বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারন করা হয়নি। সড়কের কোথাও মাঝখানে, আবার কোথাও বিপজ্জনক মোড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। খুঁটিগুলোকে পাশ কাটিয়েই চলছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। রাতের অন্ধকারে দ্রুতগামী যানবাহনগুলো এসব খুঁটির কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে। সড়কের ঠিক মাঝখানে শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ, যা পরিণত হয়েছে একেকটি মরণফাঁদে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সড়কের মাঝখানে থাকা পিডিবির এই খুঁটিগুলো স্থানান্তরের জন্য কয়েক মাস আগেই বিদ্যুৎ বিভাগকে ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিয়েছে সওজ। নিয়ম অনুযায়ী টাকা পাওয়ার পরপরই কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, বিদ্যুৎ বিভাগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসিতে কাজ ঝুলে আছে।
নগরবাসী মনে করেন এভাবে কাজ চললে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না সড়কের কাজ।
উকিল পাড়ার বাসিন্দা নুরুল হাসান আতাহের বলেন, কাজের যে গতি তা হতাশা জনক। বৈদ্যুতিক খুঁটি এখনো অপসারণ হয়নি। সড়কের মাটি ভরাটের কাজ বাকি। অবৈধ দখল উচ্চেদ হয়নি। সড়কের যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী পড়ে রয়েছে। অসম্পূর্ণ কাজের কারনে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শহরে যানজট লেগেই থাকে। যে গতিতে কাজ হচ্ছে তা সময় মতো শেষ হবে না।
সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ বলেন, খুটি স্থানান্তরের জন্য তাগাদা দিচ্ছি কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ শুধ সময় চাচ্ছে। খুঁটি না সরানোয় প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি সময়ের আগে কাজ শেষ করতে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ আশ্বস্ত করে বলেন, "ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ চলছে। পশ্চিম পাশের ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। লোডশেডিং ও জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে সওজ-এর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা হবে।" ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, আগামী দুই মাসের মধ্যে পূর্ব পাশের কাজও সম্পন্ন হবে