ছবিঃ ওয়ান টিভি
চলতি মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ হয়েছে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে গত ২৪ ঘন্টার ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জেলার এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
টানা বৃষ্টিপাতে বাড়তে শুরু করেছে জেলার সুরমা, কুশিয়ারা,বৌলাইসহ ছোট বড় সকল নদনদীর পানি। উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতে সুরমা নদীর পানি শহরের নবীনগর পয়েন্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যন্ত ৫৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর দিরাই মার্কুলী পয়েন্টে বিপদসীমার ১১ সেন্টিমটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাহাড়ি ঢলে তলিয়েগেছে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর সড়ক। সড়ক ডুবে যাওয়ায় জেলা শহরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গন্তব্য যাওয়া যাত্রীরা। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ছোট ছোট নৌকা দিয়ে ঝুঁকি গন্তব্য যাচ্ছেন যাত্রীরা।
এদিকে আগামী ৪৮ ঘন্টা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশপাশি উজানে ভারি ও অতি ভারি বৃষ্টিপাত পূর্বাভাসের কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে জেলার নদনদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়ে মৌসুমী বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমদাদুল হক।
বষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারনে বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী ও হাওরের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা। বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বন্যা ঝুঁকিতে থাকা মানুষজন।
অপরদিকে বন্যা পরিস্থিতে জীবন ও সম্পদ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঝুঁকিপুর্ণ এলাকায় সতর্কতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যা মোকাবেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বেসরকারি সংস্থা হাউসের নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ বন্যা প্রবন এলাকা। আবহাওয়া জলবায়ূর বিরুপ প্রভাবের কারনে প্রতিবছরই এই জেলা বন্যা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো যাবেনা। তবে সতর্ক থাকলে ক্ষয়ক্ষতির কমানো সম্ভব। সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকি এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য নৌযান প্রস্তুত রাখতে হবে। শিশু,বয়স্ক,প্রসূতি ও প্রতিবন্ধী সদস্যদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা রাখতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। আশ্রয় কেন্দ্রে নারী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন লোকদের জন্য পৃথক সোচারগার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা ও জরুরী সেবাসমুহ বিদ্যুৎ, গ্যাস,নেটওয়ার্ক সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তৎপর থাকতে হবে। পরিবার পর্যায়ে শুক্ন খাবার, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও মোমবাতি,মোবাইল প্রস্তুত রাখতে জনসচেতনা সৃষ্টির উপর জোরদার করেন তিনি।
এদিকে বন্যা মোকাবেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাশক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলায় ১৩১১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য ৪৯২টি শতাধিক নৌযান ও সহ্রাধিক সেচ্ছাসেবক ও ১০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জিয়ার চাল, শুক্নখাবার রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী অফিসারের পাশাপাশি, পিআইওগণ ও ডিআরআরওকর দুর্যোগে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। এছাড়াও দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবেলায় জনগণকে সতর্ক করার জন্য মাইকিং, মসজিদ, মন্দিরে প্রচারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকল উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। জরুরী প্রয়োজনে ০১৮৪৭৯৭৮৯৫৬ নাম্বারে কল করতে আহ্বান করা হয়েছে।
তাছাড়া বন্যা পরিস্থিতে সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে জোলা প্রশাসন। প্রতিকূল আবহাওয়া,ভারিবৃষ্টিপাত,দমকা হাওয়া,ও নদীতে ঝুঁকিপুর্ণ পরিস্থিতে পর্যটক নিয়ে যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে । হাউজবোট পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট,লাইফবয় রিং,জরুরী নিরাপত্তা সরঞ্চাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবহাওয়ার পূ্র্বাভাস,পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সতর্কতা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।