ক্ষ তি গ্র স্ত কৃষকের তালিকায় যুবদল আহ্বায়কের নাম, জেলাজুড়ে তোলপাড়
প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে তালিকায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাকসহ তার পরিবারের অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো এলাকায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ‘কৃষক’ না হয়েও তালিকায় নাম লেখানো হয়েছে। এই অনিয়মের ফলে প্রকৃত কৃষক সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাল্লা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বাহাড়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। সরকারি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকার ১৫৫ নম্বর ক্রমিকে তার নাম রয়েছে। তালিকায় থাকা অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন রাজ্জাকের ভাই ব্যবসায়ী রফিক মিয়া ও ফারুক মিয়া। এছাড়া তালিকায় তার বোনের স্বামী (দুলাভাই) শান্তি মিয়া এবং সাত ভাগনে—মামুন মিয়া, রোমন মিয়া, সুমন মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, সোহাগ মিয়া ও আরও দুইজনের নাম পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তিরা কেউই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত নন; তাদের বড় একটি অংশ শাল্লা সদরস্থ ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
তালিকায় অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাল্লা উপজেলা যুবদলের এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই অনিয়ম করছে। আমাদের সভাপতি ও তার আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় দেখে আমরা অবাক। অথচ তারা কেউ কৃষক নন। দলের শীর্ষ নেতাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই তাদের এই কৌশল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, ‘আমার জানামতে আব্দুর রাজ্জাক নিজে জমিজমা করেন নি৷ আমার চোখেও পরে নি। উনার এক ভাই সাংবাদিক ফারুক সে জমি করেছে সেটা আমিও দেখছি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান হয়েও একটা নাম দিছি না তালিকায়। মেম্বার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উনার তালিকা করেছেন। উনারাই তালিকা যাচাই-বাছাই, সিলেকশন করছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে বলেন, ‘তালিকায় নাম দেওয়ার সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি জমি না করলেও আমার ৬০-৭০ কিয়ার জমি আছে, যেগুলো অন্যরা করে।’
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, ‘বিষয়টি আমি জানি না৷ তালিকায় যদি কোন অসংগতি থাকে তাহলে স্থানীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে।
ওয়ান টিভি/ মনোয়ার