শান্তিপুরের বালুতে লাল বিএনপি নেতা সবুজ
প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে বালুলুটের মহোৎসব
ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় রাতদিন লুট হচ্ছে ইজারাবিহীন মাহরাম নদীর বালু। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালুলুটের এই মহোৎসব চললেও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না কাউকে। অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাকে হাত করে লুট করা হচ্ছে এসব বালু।
যার নেপথ্যে রয়েছেন ক্ষমতাশীন সরকার দলের কিছু নেতাকর্মী। সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের প্রভাবে বালু উত্তোলন,পরিবহন, ড্রাম্পিং ও অনত্র পাচার করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শান্তিপুরে বালুলুটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কয়লা ব্যবসায়ি দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সবুজ আলম। যা এলাকায় ওপেন সিক্রেট। যার সাথে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতার সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
সরজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, সবুজ আলমের অদৃশ্য প্রভাবে মাহরাম নদীতে পরিচালিত হচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডেকেট। যাদের উস্কানিতে রাত নামলেই নদীতে বারকী নৌকা নিয়ে নামেন শত শত শ্রমিক। নদী তীরের ফসলী জমি কেটে লুট করছে শত বছরে জমাট হওয়া বালু। ২০-২৫ টাকা ঘনফুট হারে বাল্কহেড নৌকার সাহায্যে এসব বালি শ্রমিকদের কাছ থেকে কিনে কিছু বালু পাটলাই নদী দিয়ে অনত্র পাচার করা হচ্ছে। বাকি বালু বড়ছড়া, কাউকান্দি, কামারভিটা, বড়খাড়া, টেকাটুকি, চতুর্ভুজসহ বিভিন্ন ড্রাম্পিং করছেন সবুজ আলমসহ তাঁর সিন্ডেকেট থাকা ব্যবসায়িরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শান্তিপুর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, রাত হলেই শত শত নৌকা নামে। জোরপূর্বক নদীর পার ও ফসলী জমি থেকে বালু নিয়ে যাচ্ছে। সবাই জানে সুবজ চেয়ারম্যান এই বালু লুটের সাথে রয়েছেন। কিন্তু কেউ বলতে সাহস পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, সবুজ চেয়ারম্যানসহ দলের একাধিক বড় বড় নেতা সবাইকে ম্যানেজ করে এই বালুলুট করেছে। এটি এখন ওপেন সিক্রেট বিষয়।
গত শনিবার সরজমিনে উপজেলা বড়ছড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে বালু। যে কয়লার ডিপোতে আমদানিকৃত কয়লার থাকার কথা সেখানে বড়ছড়া কয়লা সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দাপট দেখিয়ে বালু ডাম্পিং করে রেখেছেন সবুজ আলম। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ায় অবৈধ বালি ব্যবস্থায় স্থানীয় কয়লা সমিতির যোগসাজশ থাকার অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
কয়লার ডিপোতে বালু ডাম্পিংয়ের ব্যাপারে জানতে তাহিরপুর কয়লা সমিতির সভাপতি খসরুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শান্তিপুরের বালুর বদৌলতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা অবৈধ পন্থায় আয় করছেন সবুজ আলম। কেউ কেউ হাস্যরসে বলেন শান্তিপুরের বালিতে লাল বিএনপি নেতা সবুজ।
বালু লুটের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে অভিযুক্ত সবুজ আলমের মুঠোফোনে কল করা হলে অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার সম্পৃক্ত কই পেলেন। আমি এসব কিছুতে নেই। আমি কয়লা ব্যবসা করি। আমার কোনো বালুর ব্যবসা নেই। এসব মিথ্যা।
শান্তিপুরের বালু লুটের ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে অবগত রয়েছি। প্রতিদিনই ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে অভিযান করা হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট যাওয়ার আগেই খবর পেয়ে নদী থেকে সরে যায় লুটকারীরা। এ বিষয়টি আজও আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতায় কিভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়। লুটের সাথে নিজের দপ্তরের কারো সম্পৃক্তা নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা।