https://onetv24.com/

1084

sports

খেলা

হাইতি ম্যাচে ব্রাজিলের একাদশে বড় রদবদল

ফিরছেন দানিলো, আনচেলত্তির বিশেষ চাল ক্যাসিমিরোকে নিয়ে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ ২০:১০
প্রতিবেদক: ওয়ান টিভি ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের মাঝে যে জড়তা বা চাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তা কাটাতে দলে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছিলেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে আগামী শুক্রবার হাইতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সেলেসাও শিবিরে শুধু ফুটবলার বদল নয়, বরং মাঠের মানসিকতা ও খেলার ধরন পাল্টানোর ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন জরিপে সমর্থকদের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের শিকার হলেও, নিজের অন্যতম বিশ্বস্ত সেনানি ক্যাসিমিরোর ওপর থেকে আস্থা হারাননি আনচেলত্তি। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে তাকে দ্রুত তুলে নেওয়া হলেও দলে এই মিডফিল্ডারের গুরুত্ব একবিন্দু কমেনি। কোচের স্পষ্ট ধারণা, পুরো দলের ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের কারণেই ক্যাসিমিরো নিজের চেনা রূপ দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো মাঠে নামার পর দলের ভারসাম্য অনেকটাই ফিরে আসে।

বয়স এবং বর্তমান ফর্ম নিয়ে নানামুখী সমালোচনা চললেও ৩৪ বছর বয়সী দানিলোর কার্যকারিতা এখন প্রমাণিত। মরক্কো ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইবানেজের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি যেভাবে নড়বড়ে রক্ষণভাগকে আগলে রেখেছিলেন, তাতেই পরিষ্কার যে বৈশ্বিক আসরে অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। ফ্ল্যামেঙ্গোর এই অভিজ্ঞ তারকা কেবল মাঠেই অবদান রাখছেন না, ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমের হাল ধরে তরুণ ফুটবলারদের কড়া বার্তা দিতেও পিছপা হননি। দলের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে দানিলো সবাইকে দ্রুত পারফরম্যান্সের উন্নতি করার আলটিমেটাম দিয়েছেন। ফলে হাইতির বিপক্ষে তাঁর শুরুর একাদশে থাকাটা প্রায় নিশ্চিত।

মাঝমাঠে ক্যাসিমিরোকে বিশ্রামে রেখে ফাবিনহোকে খেলানোর একটা গুঞ্জন বাতাসে ভাসলেও, তার পেছনে কোনো কৌশলগত কারণ নেই; মূল দুশ্চিন্তা হলো ক্যাসিমিরোর নামের পাশে থাকা হলুদ কার্ড। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে দুটি হলুদ কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসে, যা কেবল নকআউট পর্বে গিয়ে মওকুফ হয়। দূরদর্শী আনচেলত্তি তাই ভাবছেন, ক্যাসিমিরোকে হাইতির বিপক্ষেই মাঠে নামানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এই ম্যাচে তিনি যদি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পানও, তবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ নিয়মরক্ষার ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকবেন এবং নকআউট পর্বের জন্য একদম ক্লিন হয়ে ফিরবেন। কিন্তু তাকে হাইতি ম্যাচে বসিয়ে রেখে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলানো হয় এবং সেখানে তিনি কার্ড দেখেন, তবে নকআউটের প্রথম মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই নিষিদ্ধ হবেন এই রিয়াল কিংবদন্তি।

তাছাড়া ব্রাজিল দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ বলছে, হঠাৎ করে ক্যাসিমিরোকে বেঞ্চে বসিয়ে দিলে দলের তরুণ তুর্কিদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে। কোচ ও স্কোয়াডের ওপর তাঁর প্রভাব এতটাই গভীর যে, হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত পুরো ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে। অবশ্য ক্যাসিমিরো নিজে সবসময় দলের স্বার্থকে আগে দেখেন; প্রয়োজনে বেঞ্চে বসে থাকতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

ক্যাসিমিরো যেখানে কিছুটা অন্তর্মুখী ও গম্ভীর, সেখানে দানিলো ইতিমধ্যেই ড্রেসিংরুমের আসল চালিকাশক্তি ও প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। মাঠের বাইরে তরুণ খেলোয়াড়দের পরামর্শ দেওয়া কিংবা আগলে রাখার দায়িত্বটা এখন দানিলোর কাঁধেই। এই মুহূর্তে দলের মূল মেরুদণ্ড অধিনায়ক মার্কিনহোস, গোলরক্ষক আলিসন এবং চোটাক্রান্ত নেইমার হলেও, আনচেলত্তির রণকৌশলের মূল চাবিকাঠি মূলত ক্যাসিমিরো এবং দানিলোর হাতেই ন্যস্ত।

এদিকে গত বুধবার সংবাদমাধ্যমের নজর এড়িয়ে সম্পূর্ণ রুদ্ধদ্বার অনুশীলনে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন আনচেলত্তি। সেখানে তিনি ক্যাসিমিরোকে বাইরে রেখে ফাবিনহো ও ব্রুনো গিমারায়েসকে দিয়ে মাঝমাঠের মহড়া দেন। রক্ষণভাগে দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোকে ফুল-ব্যাক এবং ব্রেমার ও গ্যাব্রিয়েল মাগাহায়েসকে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলানো হয়। আক্রমণভাগে লুকাস পাকেতাকে বিশ্রামে রেখে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সাথে রায়ান, লুইজ হেনরিক এবং মাথেউস কুনিয়াহকে দিয়ে আক্রমণভাগ সাজিয়েছিলেন কোচ। পায়ের ফোসকার চোট কাটিয়ে রাফিনিয়া অবশ্য স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন শেষ করেছেন।

আনচেলত্তির পুরনো কৌশল হলো, ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর তিনি মূল একাদশ প্রকাশ করেন, যাতে দলের প্রতিটি সদস্য নিজেকে শুরুর একাদশের দাবিদার ভেবে শতভাগ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে পারে। ডিফেন্ডার ডগলাস সান্তোস কোচের এই ফর্মুলার পক্ষে কথা বললেও, মরক্কো ম্যাচের চাপ সেলেসাওরা যেভাবে সামলাতে হিমশিম খেয়েছিল, তা ভুলে যাওয়ার মতো নয়। এখন দেখার বিষয়, হাইতির বিরুদ্ধে এই অ্যাটিটিউড বদলে ব্রাজিল মাঠের ভেতরে নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে পারে কিনা!

🔔 শিরোনাম
ছাতকে অ বৈ ধ ড্রে জা রে র বালু উত্তোলনে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় ৪০টি পরিবার কামব্যাকের মহাকাব্য লিখে ফাইনালে আর্জেন্টিনা দোয়ারাবাজারে ৭৭ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শ ঙ্কা ড্রেজার দিয়ে কুশিয়ারা নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলল, হুমকির মুখে একাধিক গ্রাম পাহাড়ি ঢলের চাপে সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুরের ৮ গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে বাড়ছে বন্যার উদ্বেগ  পাহাড় ধ সে অন্তত ১১ জনের মৃ ত্যু বিদ্যুতের ট্রাজিডিতে শোকে মুহ্যমান অনন্তপুর গ্রাম বি দ্যু ৎ স্পৃ ষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের ম র্মা ন্তি ক মৃ ত্যু