https://onetv24.com/

1186

sunamganj

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে নিশিভোটের কারিগর ডিসি আহাদের অপকর্মের সহযোগী পিন্টু এখনও বহালতবিয়তে

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৪
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি

সাবেক ডিসি আব্দুল আহাদ ও উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিন্টু দাস। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলের নিশি ভোট খ্যাত ২০১৮ সালের বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বহুল আলোচিত এই নির্বাচনের জেরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাদেরকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এই অপকর্মের দায়ে সুনামগঞ্জের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদকে অবসরে পাঠালেও, তাঁর সকল অপকর্মের প্রধান সহযোগী ও  জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপনীয় শাখার উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিন্টু দাস এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও গত ১১ বছর ধরে একই চেয়ারে তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ জারি করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই সরকার যেকোনো কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থাকা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ওই ৩২ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়, যার মধ্যে সুনামগঞ্জের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ সুনামগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর সব অনিয়ম ও দুর্নীতির মূল সহযোগী ছিলেন তাঁর গোপনীয় সহকারি পিন্টু দাস। ক্ষমতার পালাবদল হলেও স্পর্শকাতর এই জায়গায় অদৃশ্য শক্তিবলে বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন পিন্টু৷ আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ডিসির পছন্দে গোপনীয় সহকারী হওয়া পিন্টু অর্ন্তবর্তী আমল খেয়ে এখন বিএনপি আমল দেদাসে উপভোগ করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, গোপনীয় শাখায় দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একক আধিপত্য বজায় রেখে চলা পিন্টু ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট কারচুপিতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সুনামগঞ্জের কোন কোন কেন্দ্রে ভোট চুরি করা সহজ হবে, সেই গোপনীয় কৌশল ও তথ্য ডিসি আহাদকে সরবরাহ করেছিলেন পিন্টু। পরে সেই রোডম্যাপ অনুযায়ীই ভোট জালিয়াতি সম্পন্ন হয়। গোপনীয় শাখায় কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সুকৌশলে গোপন রেখেছিলেন। তাঁর দাপটের কারণে ডিসি অফিসের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কোনো কর্মচারী কখনো তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, সাবেক ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সঙ্গে বিশেষ সখ্য গড়ে তুলে একাধিকবার জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পুরস্কার বাগিয়ে নেন পিন্টু দাস। ডিসির সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের জানান দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও একাধিক ছবি আপলোড করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সেই ছবিগুলোকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একেকজন নতুন ডিসিকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে ডিসি অফিসে একক কতৃত্ব বজায় রেখে চলেছেন পিন্টু।

এদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ঠিক কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে তিনি ১১ বছর ধরে একই চেয়ারে দাপটের সঙ্গে বহাল আছেন, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা। অবিলম্বে এই বিতর্কিত কর্মচারীকেও আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তৎকালীন এক নেতা জানান, ‘উজানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির অবস্থা ভালো থাকায় সেই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থীর পাশ করা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। ঊর্ধ্বতন নেতাদের সাথে কথা বললে জানানো হয় পিন্টু বাবু প্রিজাইডিংদের সাথে কথা বলবেন, এবং ডিসি স্যারে নির্দেশ দিয়েছেন কি করতে হবে। এরপরই ফলাফল চেঞ্জ শুরু হয়। এইটা শুধু এই কেন্দ্রে না সবগুলো দূর্গম কেন্দ্রে করা হয়েছে।’

জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াহালট গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ভোট চুরি করে ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিলো৷ এটা খুব অন্যায়। এইধরনের অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হউক। শুধু জেলা প্রশাসক না ভোট গ্রহনের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হউক।’

তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের লিমন আহমেদ বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যারা ভোট চুরি করেছে তাঁরা সবাই চুর। শুধু ডিসির কেন, ডিসির সহযোগী সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার একাধিকবার তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, সোমবার একই কর্মস্থলে এক যুগ দায়িত্বে থাকার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা পিন্টু দাস বলেন, ‘পদায়ন এটি আমার ইচ্ছে নয়, কর্তৃপক্ষের ইচ্ছে একই দপ্তরে রয়েছি। কর্তৃপক্ষ যদি কালকেই বদলি করেন, আমি কালকেই চলে যাবো। আমি নিজেও চাই বদলী হতে। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় থাকায় মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমি স্যারকে বলেছি, বদলি করে দিতে।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ‘এধরনের কোনো বিষয় হলে অবশ্যই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সহায়ক হবো। আমরা তো আর পদক্ষেপ নিতে পারি না৷ তবে, আমি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’ 

পর্ব:২

🔔 শিরোনাম
৫৫ বছর ধরে নিরুদ্দেশ দুই ভাই ছাতক-সিলেট রেলপথ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, কাজ  মাত্র সিকিভাগ হয়‌নি ! ছাতকে ৪৩৪ গাছের নিলাম মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ঈদের দিন আলোচিত ওয়ারিস হ, ত্যা মা ম লায় ২ জনের যা'ব'জ্জী'বনসহ ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদ সা'জা এক সপ্তাহের মধ্যে দালাল চক্রের তথ্য পাঠাতে পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আনসার উজ্জ্বল নি হ তে হানিফের সম্পৃক্ততার অ ভি যো গ সুনামগঞ্জে বাস উল্টে খাদে পড়ে নারী নি হ ত: আহত ২০ জন গোচারণ ভূমি দখল নিয়ে দিরাইয়ে হা ম লার অ ভিযোগ সিলেটে সড়ক দু র্ঘ ট না: সুনামগঞ্জের একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রীসহ সন্তান নি হ ত প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক : এমপি কয়ছর