চু রি র অ ভি যোগে তিনজনকে বেঁধে অ মা নুষিক নি র্যা তন,
চোখে ঢালা হল চুনের পানি নেতৃত্বে বিএনপি নেতা মোর্শেদ
ছবি: সংগ্রহীত
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে আটকের পর বেঁধে তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে৷ নির্যাতনের একপর্যায়ে তাদেরকে অন্ধ করে দেয়ার জন্য চোখে চুনের পানি ঢালা হয়েছে৷
নির্যাতনের শিকার তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানি হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
হাসপাতালের বেডে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তারা৷ চোখে চুনপানি ঢালায় তাদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্বজনরা।
'চোরদের শিক্ষা দিতে' সংঘবদ্ধ এই নির্যাতনে মোর্শেদ আলম নামের এক ফ্রান্স প্রবাসী বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠেছে৷ তিনি বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী৷
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া মসজিদের সামনে গরু চুরির অভিযোগে ধরে এনে এই তিন ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন—বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৫), একই ইউনিয়নের পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) ও ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোরাপানি গ্রামের মৃত শেরগুল মিয়ার ছেলে সোনাই মিয়া (২৫)।
তাদেরকে বাড়ি থেকে ধরে আনা এবং মাটিতে ফেলে তিনজনকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, আটক তিনজনকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হচ্ছে। হাত-পা বাঁধা অবস্থাত মাটিতে পড়ে আছেন তারা। তাদের শরীর অনাবৃত এবং নাক, মুখ ও চোখে চুন লাগানো। ব্যথায় কাতরাচ্ছেন এবং পানি পানি বলে ফরিয়াদ করছেন৷ এ সময় একটি লাঠি হাতে একটি চেয়ারে বিএনপি নেতা মোর্শেদকে বসে নানা জনকে নির্দেশনা দিতে দেখা যায়৷
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে উপজেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের ভক্তারপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের দুটি গরু চুরি করার অভিযোগ ওঠে ছাতকের সোনাই মিয়ার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ভোরে পালইছড়া গ্রামের লোকজনের হাতে গরুসহ আটক হন তিনি। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাবাজার এলাকার আবু বক্করকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। অপর অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিনকে আটক করে এলাকার লোকজন। খবরটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পালইছড়া মসজিদের সামনে জড়ো হন৷ শুরু হয় সালিশ৷ এসময় বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম, ইউপি সদস্য হানিফ আলী, সামাদ মিয়া, রতন মিয়া ও জাকির হোসেনের নির্দেশে উত্তেজিত জনতা তিনজনের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। কুড়াল দিয়ে আঘাত করে আবু বক্করের ডান পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনজনের চোখে গরম চুনের পানি ঢেলে চোখ নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়৷
খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানী তিনজনকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনজনের চোখের অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে চোখের চিকিৎসক না থাকায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এদিকে চুরির অপরাধে চোরদের নির্যাতন করার ভিডিওতে মুর্শেদ আলমকে লাটি হাতে দেখা গেলেও নির্যাতনে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি সবার শেষে সেখানে যাই। আমি যাওয়ার কারনে তারা বাঁচচে। না হয় পরিণতি খারা হতো। মারধোরে আমি জড়িত নই। এসব সঠিক না।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আটক তিন ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আদালত নির্দেশনা দিলে তাদেরকে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
তিন ব্যক্তির ওপর নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে স্বজনরা অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।